August 20, 2026, 5:39 am

শেষ বলের রোমাঞ্চে হারল বাংলাদেশ

শেষ বলের রোমাঞ্চে হারল বাংলাদেশ

শেষ ওভারে জয়ের জন্য পাকিস্তানের প্রয়োজন ৮ রানে। বিকল্প বোলার না থাকায় অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ নিজেই বল হাতে তুলে নেন। প্রথম বল ডট দেওয়ার পর দ্বিতীয় বলে ফেরান সরফরাজ আহমেদকে। পেণ্ডুলামের মতো দুলতে থাকা ম্যাচ তখন বাংলাদেশের দিকে হেলে। পরে হায়দার আলী, ইফতেখার আহমেদকে ফিরিয়ে মরা ম্যাচে প্রাণ ফেরান মাহমুদউল্লাহ। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। শেষ বলে ৪ খেয়ে ম্যাচ হারে বাংলাদেশ দল।

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের লক্ষ্য কী? সম্প্রতি নানান কাণ্ডে আর বির্তকিত ঘটনায় জর্জরিত বাংলাদেশ দল মাঠের বাইরে যেমন টালমাটাল, তেমনি খেই হারিয়েছে বাইশ গজে। বিশ্রামের আড়ালে বাদ পড়ছেন দলের সিনিয়র ক্রিকেটাররা। এর পিছনে ছায়া হয়ে ছিল অধারাবাহিক পারফরম্যান্স। একাধিক তরুণ ক্রিকেটারকে সুযোগ দেওয়া, ওপেনিং জুটিতে পরিবর্তন। এ ম্যাচের শেষের রোমাঞ্চটুকু বাদ দিলে আখেরে লাভ হচ্ছে না কিছুই

ক্রিকেটারদের শরীরী ভাষা একেবারে নির্লিপ্ত। যেন ম্যাচ জয় নয়, হারতে বা অংশগ্রহণ করতে মাঠে নামছে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর দল। পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ হারের পর আজ (সোমবার) তৃতীয় ও শেষ ম্যাচেও হার লাল-সবুজের দলের। মিরপুরে এ ম্যাচে আগে ব্যাট করে স্কোর বোর্ডে ১২৪ রানের পুঁজি পায় বাংলাদেশ দল। ছোট লক্ষ্য টপকাতে বেগ পেতে হয়নি পাকিস্তানকে। ৫ উইকেট হাতে রেখে টানা তিন জয়ে ধবলধোলাই করল তারা।

এমন ব্যর্থতায় দায় অবশ্য কম নয় টিম ম্যানেজমেন্টের। শেষ ম্যাচের আগে তড়িঘড়ি করে উড়িয়ে আনা হলো পারভেজ হোসেন ইমন আর কামরুল ইসলাম রাব্বিকে, অথচ আগের দুই ম্যাচ হেরে ধবলধোলাইয়ের শঙ্কায় থাকা স্বাগতিকরা এ ম্যাচে সুযোগ দেয়নি এই দুই ক্রিকেটারকে। ইয়াসির আলী রাব্বিকে কেন আবারও উপেক্ষিত করা হলো এনিয়ে প্রশ্নের পাহাড় জমেছে। কিন্তু উত্তর নেই কোন।

টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ঘরের মাঠে এর আগে সবশেষ সাড়ে ৩ বছর আগে ধবলধোলাইয়ের স্বাদ পেয়েছিল বাংলাদেশ দল। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরেছিল ০-২ ব্যবধানে। যদিও এরপর বিদেশের মাটিতে আরও ৩ বার এমন স্বাদ পেতে হয়েছে বাংলাদেশ দলকে।

এদিন আগে ব্যাট করে নাঈম শেখের ৪৭ রানের উপর ভর করে স্কোর বোর্ডে ১২৪ রানের পুঁজি পায় বাংলাদেশ দল। ১২৫ রানের লক্ষ্য টপকাতে নেমে ওপেনার বাবর আজম এ ম্যাচেও সুবিধা করতে পারেননি। পাকিস্তানি অধিনায়ককে ১৯ রানে আউট করেন লেগ স্পিনার আমিনুল ইসলাম। বাবর আউট হলে ভাঙে মোহাম্মদ রিজওয়ানের সাথে ৩২ রানের উদ্বোধনী জুটি।

এরপর ৩ নম্বরে নামা হায়দার আলীকে নিয়ে দলকে সহজ জয়ের পথেই রাখেন রিজওয়ান। ৪৮ বলে গড়েন জুটির ফিফটি। রিজওয়ান নিজেও হাঁটছিলেন অর্ধশতকের দিকে, তবে অভিষেক হওয়া পেসার শহিদুল ইসলাম দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে রিজওয়ানকে বোল্ড করেন। এই ওপেনার ফেরেন ৪৩ বলে ৪০ রান করে। পরে এই সিরিজের প্রথমবারের মতো একদশে সুযোগ পাওয়া সরফরাজ আহমেদকে নিয়ে লড়াই চালান হায়দার আলী।

শেষদিকে পাকিস্তান শিবিরে চাপ তৈরি করেছিলেন স্বাগতিক বোলাররা। শেষ ২ ওভারে জয়ের জন্য পাকিস্তানের প্রয়োজন পড়ে ১৫ রান। ১৯তম ওভারে শহিদুল ৭ রান দিলে শেষ ওভারে ৮ রান দরকার হয়। তবে হাতে বিকল্প বোলার না থাকায় অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ নিজেই বল হাতে তুলে নেন।

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com